ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর উপজেলা প্রতিনিধি মো. আলমগীর কবিরকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাব।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৮টায় উপজেলা প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি কবির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত শামীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলমগীর কবির, অর্থ সম্পাদক মিয়া রাকিবুল, আইন সম্পাদক হাসিবুল হাসান জুয়েল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল কাদের তুহিন, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সালেহ নাসিম ও ওবায়দুর রহমান এবং সদস্য মুজাহিদ মৃধা।
প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক মো. আলমগীর কবির বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি সবসময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করি। একটি সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ায় সেটি সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করি। এরপরই অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি কিংবা সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার হুমকি নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সাংবাদিক আলমগীর কবির ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
জানা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে সাংবাদিক আলমগীর কবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ধর্ষণসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ায় তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে সংশোধিত ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পোস্টটি অপসারণ না করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, হুমকিদাতাকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি বিদেশি নম্বর থেকে করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নম্বরটি অধিকতর বিশ্লেষণের জন্য দ্রুত সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হবে।