বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আলফাডাঙ্গায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা আলফাডাঙ্গায় পুনঃখননে প্রাণ ফিরে পেল খাল, কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি জুমার দিনের ফজিলত টিটা ভাসমান সেতু বাওড়ের জলে নতুন প্রাণের স্পন্দন, অবমুক্ত ৬৮০ কেজি দেশীয় মাছের পোনা বাবার বকুনিতে অভিমান, তরতাজা যুবকের প্রাণ গেল বিষপানে নাফে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের গুলিবর্ষণ, ছিনিয়ে নিয়ে গেল নৌকা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকলকে ‘ঈদ মোবারক’ টেকনাফে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান পলাতক আসামি নবী হোসেন গ্রেপ্তার টেকনাফে পৃথক অভিযানে বিদেশি মদ- পণ্যসামগ্রীসহ গ্রেফতার-১৩ আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজে তিন প্রভাষকের অশ্রুসিক্ত বর্ণিল বিদায়

আলফাডাঙ্গায় পুনঃখননে প্রাণ ফিরে পেল খাল, কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও পলি জমে প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসা একটি খাল আবারও ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে হাজারো কৃষকের মাঝে। কৃষিনির্ভর এ জনপদে জেগেছে নতুন সম্ভাবনার আলো।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক সময়ের পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি এখন পানিতে টইটম্বুর। বর্ষার পানি বারাশিয়া নদী থেকে সহজেই খালে প্রবেশ করায় কৃষকরা দলবেঁধে পাট জাগ দিচ্ছেন। খালের দুই তীরে চলছে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ পাট জাগ দিচ্ছেন, কেউ সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, সেচ সংকট ও পাট পচানোর দুর্ভোগ কাটিয়ে কৃষকদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। খালের দুই পাড়ে লাগানো বনজ ও ফলজ গাছের চারায় পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৮ টাকা। সরকারি অর্থের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের অনুপস্থিতিজনিত উদ্বৃত্ত ৩৭ হাজার ৩৭০ টাকা বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এক সময়ের মৃতপ্রায় খালটি এখন থইথই পানিতে ভরপুর। সেই পানিতে কৃষকরা মনের আনন্দে পাট জাগ দিচ্ছেন। পানির অভাবে অতীতে দূর-দূরান্তে গিয়ে পাট পচাতে হলেও এবার বাড়ির পাশেই সেই সুযোগ মিলেছে। এতে যেমন সময় ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কমছে উৎপাদন ব্যয়ও।

বড়ভাগ গ্রামের কৃষক ইমদাদুল শেখ (৫৩) বলেন, আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হতো। অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে পাট পচাতে হওয়ায় খরচও বেশি হতো। এবার বাড়ির পাশেই খাল পুনঃখনন হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা আর নেই। সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

মালা গ্রামের কৃষক কামরুল শেখ (৪৬) বলেন, এবার আমি দেড় একর জমিতে পাট চাষ করেছি। আগে অন্যের পুকুর ভাড়া নিয়ে পানি ভরে পাট জাগ দিতে হতো। এবার খালের পর্যাপ্ত পানিতে সহজেই পাট পচাতে পারছি। এতে পাটের মান ভালো হবে এবং বাজারেও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকরা সহজেই পাট জাগ দিতে পারছেন, সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন, জলাবদ্ধতা কমছে এবং মাছ চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাগর হোসেন সৈকত বলেন, “টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়ার ৫৭০ মিটার খালটি পুনঃখননের আগে ডিজিটাল সার্ভে ও সুনির্দিষ্ট পরিমাপের মাধ্যমে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করা হয়। কাজের প্রতিটি ধাপে শতভাগ তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন। খালের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা নির্বিঘ্নে পাট জাগ দিচ্ছেন। এ পুনঃখনন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও প্রকল্পের নীতিমালা অনুসরণ করে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা ও পানি ধারণক্ষমতা ফিরে এসেছে। ইতোমধ্যে খালে পর্যাপ্ত পানি জমেছে এবং জীববৈচিত্র্যও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। ফরিদপুর পাট উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত। কৃষকরা ইতোমধ্যেই এই খালে পাট জাগ দেওয়া শুরু করেছেন। সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের সুফল স্থানীয় মানুষ সরাসরি ভোগ করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু একটি খালের নাব্যতাই ফিরে আসেনি, ফিরে এসেছে কৃষকের আশা-ভরসাও। পাট জাগ দেওয়ার সুবিধা, সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাছ চাষের প্রসার, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সরকারের সময়োপযোগী এই উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেয়েছে খাল, আর কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তি, সন্তুষ্টি ও আগামীর স্বপ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ
Developed By AZAD WEB IT