ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী মো. আকাশ মিয়া। তিনি ইতোমধ্যেই নিজ এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বানা ইউনিয়নের চর বেলবানা গ্রামে বন্যায় দুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন তিনি। এই উদ্যোগটি শ্যামল বাংলাদেশে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া ফেলে।

মরিশাস-ভিত্তিক ‘ইশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেড’-এর পক্ষ থেকে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এদিন সকালে, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর আগে, আকাশ মিয়া তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঘরহারা ও খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন।

মো. আকাশ মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেন মিয়ার সন্তান। বর্তমানে তিনি মরিশাসে ‘ইশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেড’-এর একজন পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। দেশের বাইরে থাকলেও দেশের মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে বারবার জনসেবায় উদ্বুদ্ধ করে।
স্থানীয়দের কাছে আকাশ মিয়া একজন সত্যিকারের জনদরদি হিসেবে পরিচিত। করোনাকালীন সময়ে মাসব্যাপী চাল বিতরণ, ঈদে গরুর মাংস ও বস্ত্র বিতরণ, এতিমখানায় নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ, শীতকালে কম্বল বিতরণ, এবং দুর্যোগে ঘর নির্মাণে সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক কাজে তার অবদান অনস্বীকার্য। স্থানীয় মানুষ তার নিঃস্বার্থ সেবার জন্য তাকে “মানবতার ফেরিওয়ালা” উপাধিতে ভূষিত করেছে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এ সময় আকাশ মিয়ার পিতা মো. জাকির হোসেন মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আকাশ বিদেশে থাকলেও তার মন সবসময় দেশের মানুষের কাছে পড়ে থাকে। তার এই মহৎ কাজে আমরা গর্বিত।”
আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান দাউদ আকাশের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আকাশের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তবে তাদের কষ্ট অনেক কমে যাবে।”
সৌদি আরব প্রবাসী বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এই উদ্যোগকে অনুপ্রেরণামূলক বলে মন্তব্য করেন। ধলাইরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “মানবতার সেবা একটি শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আকাশের এই কাজ আল্লাহর কাছে কবুল হবে এবং তার এই মহৎ উদ্যোগের জন্য আল্লাহ তাকে আরও সফল করবেন।”