ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বেকিং শিল্পে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের এক নতুন মেলবন্ধন ঘটিয়ে খুব অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ‘একতা ফুড কর্ণার এন্ড লাইভ বেকারী’। কৃষি ব্যাংকের নিচতলায়, উপজেলা রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন স্থানীয়দের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত বেকারি পণ্যের এক আস্থার নাম।
প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হাফেজ মোঃ আসাদুজ্জামান তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানান, “আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি বেকারি তৈরি করা, যেখানে মানুষ সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও তাজা পণ্য পাবে। আমরা সবসময় ক্রেতাদের চাহিদা ও স্বাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখি। এখানে সকল পণ্য আমাদের নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয় এবং আমরা পণ্যের মান নিয়ে কখনো আপস করি না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, পণ্যের এই উচ্চ মানের কারণেই তারা এত দ্রুত গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছেন। তার মতে, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সঙ্গে আধুনিক বেকিং কৌশলকে একত্রিত করে নতুন কিছু নিয়ে আসতে। সবার ভালোবাসা আর দোয়া পেলে আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারব।”
‘একতা ফুড কর্ণার’-এর সাফল্যের পেছনে গ্রাহকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত গ্রাহকদের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটি কেবল পণ্য বিক্রি করে না, বরং মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। নিয়মিত গ্রাহক আলমগীর কবির বলেন, “একতা ফুড কর্ণারের কেক, পেস্ট্রি আর বিস্কুটের স্বাদ সত্যিই অসাধারণ। সবচেয়ে ভালো লাগে যে, সব পণ্য আমাদের চোখের সামনেই তৈরি হয়, তাই স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না। এটি আলফাডাঙ্গার জন্য একটি গর্বের বিষয়।”
গৃহিণী সামিনা বেগম বলেন, “আমার পরিবারের সবাই এখানকার পণ্য খুব পছন্দ করে। বিশেষ করে রুটিগুলো এতটাই সুস্বাদু যে অন্য কোথাও থেকে কিনতে ইচ্ছে করে না। যখনই বাড়িতে কোনো অতিথি আসেন, আমি এখান থেকেই কিনি।” কলেজ শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদিন জানান, “বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য এটি একটি দারুণ জায়গা। এখানকার রোল আমার খুবই ভালো লাগে।” আরেক নিয়মিত ক্রেতা সেলিম মোল্লা বলেন, “আলফাডাঙ্গায় এমন একটি আধুনিক বেকারীর খুব দরকার ছিল। এখানকার কেক, পেটিস, বিস্কুট ও পেস্ট্রি সত্যিই অসাধারণ, এবং দামও সাধ্যের মধ্যে।”
‘একতা ফুড কর্ণার’ কেবল মানসম্মত বেকারি পণ্যই সরবরাহ করছে না, বরং আলফাডাঙ্গার বেকিং শিল্পে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তার স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যবিধি ও রুচিশীলতার কারণে স্থানীয়দের কাছে এক নতুন পরিচয় গড়ে তুলেছে।