শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় টেকনাফ প্রেসক্লাবের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়লো বিশাল ভোল মাছ, বিক্রি হল চড়া দামে হোয়াইক্যং মুরগির খামারে মিললো বিপুল ইয়াবা, শামীম গ্রেপ্তার টেকনাফে এলজিইডি কর্তৃক ক্লাস্টার উন্নয়ন প্ল্যান শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত টেকনাফ প্রেসক্লাব কমিটি প্রয়াত ইউনুছ সিকদার জন্য টেকনাফ পৌর আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ফেসবুকে ‘ঢাকা যাওয়ার’ পোস্ট, আলফাডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার টেকনাফে চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা ইউনুছ হত্যা, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুক্তিপণ বাণিজ্যের মূলহোতা ‘গুরা ভাই’ শীর্ষক সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ টেকনাফে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া: দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন

মধুমতি নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস: দ্রুত মেরামতের আশ্বাস, আতঙ্কিত এলাকাবাসী

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : / ২০৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর আজমপুর গ্রামে মধুমতি নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এই অপ্রত্যাশিত ধসের ঘটনায় নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বাঁধ ধসের কারণ এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ সোমবার ভোর থেকে বাঁধের সিসি ব্লকগুলো খসে পড়া শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিম্নমানের কাজ এবং যথাযথ ডাম্পিং না করায় বাঁধটি নদীর প্রবল স্রোত সহ্য করতে পারেনি।
চর আজমপুরের বাসিন্দা শামীম মোল্লা(৫২) বলেন, একেবারেই নদীর কাছে বাড়ি আমার। আমি খুব আতঙ্কে আছি। যে কোন মুহূর্তে আমার বাড়ি গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে আমার।

একই গ্রামের হান্নান শরীফ (৬২) বলেন, “কাজ নিম্নমানের হয়েছে বলেই এমন ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাবে।” শেফালী বেগম (৫৫) নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “স্থায়ী বাঁধ হবে ভেবে ধারদেনা করে ঘর তুলেছি। এখন সেই বাঁধই ভেঙে যাচ্ছে। আমরা কোথায় যাব?”

কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ ও আশার বাণী
বাঁধ ধসের খবর পেয়েই ফরিদপুর পাউবোর একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান থাকায় মেরামতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তিনি বলেন, “নদীর স্রোতধারার পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দিয়েছি।”

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন মল্লিকের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, “নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে কিছু অংশ ধসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। নদীর পানি কমলে ব্লক স্থাপন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে দেওয়া হবে।”

ইউএনও’র ইতিবাচক বার্তা
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবালএই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেরামত কাজ শুরু করেছে। আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীপাড়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা নিশ্চিত করব যেন বাঁধটি দ্রুত ও সঠিকভাবে মেরামত করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।”

ইউএনও’র এই ইতিবাচক বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এবং তাদের বাড়িঘর নিরাপদ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরো সংবাদ দেখুন